কেন যে অযথা মনে হয় তুমি আমাকেই ভালোবাসো



 তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন— এর একগুচ্ছ কবিতা:


তনুতাকে— ক


হাজারে কতজন মরে

কেই বা ভালোবেসে ছোঁয় তোমার মৃত লাশটা


এসব হলুদ বোশেখ ঝড়ে পড়ে অবিরত 

শহর ফিরে যায় গ্রামে;

ঘরবন্দি প্রেমিকার চেনা মুখ অচেনা হয়ে যায়

আমরা ছুটে চলি মরণের পথে...


পৃথিবীর সমস্ত নদী, আকাশের সমস্ত মেঘ

ফসলের সবুজ মাঠ ছুটে চলে তোমার দিকে

তোমাকে ছোঁয় না প্রেম, ছোঁয় না নিঃসঙ্গতা 

আমার শুধু নিঃসঙ্গতা থেকে যায়,

বেড়ে যায় প্রেমের ক্ষত


এসব প্রেম ও নিঃসঙ্গতা লকডাউনের মতো...



তনুতাকে—খ


জলের মতন মসৃণ ওই মুখটা দেখব বলেই 

এই পথে দাঁড়িয়ে থাকি

সব দেখা হয় না এই ঘোলাটে চোখে

সব দুঃখ ফুরোয় না পথে; আর সব ভালোবাসাও। 

ভালোবাসা ফুল। ভালোবাসা ভুল।


তোমার সমুদ্রে হেঁটে যাই আমি

থাকে না ফেরার পথ। সব জল ফুরোয় না সে পথে...

কেবল নক্ষত্রের কাছে পথ থাকে চেনা 

তোমার গল্পে নেই যে কেন মনের লেনাদেনা।



তনুতাকে— গ


আম্মাকে তো বলেই দিয়েছি

আমি আর বাড়ি ফিরবো না 

তবুও আম্মা বাড়ি যেতে বলেন

আমি বাড়ি না ফিরে তোমার কাছে যাই।


একবার যাই, একবার থামি 

ভাবি, তুমি যদি ভালো না বাসো প্রিয়

আমাকে সেই ফিরতেই হবে বাড়ি


আমি তোমার কাছে যাই, নতজানু হয়ে ভালোবাসা চাই

তুমি ফিরিয়ে দাও ভিখারির মতো 

আমি বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভাবি...


কেন যে অযথা মনে হয়, তুমি আমাকেই ভালোবাসো!



তনুতাকে— ঘ


তোমার বাঁ হাত আমার নাম ধরে কাঁদে

তুমি তাকে কেটে ফেল রাগে

হাতের আর দোষ কী বলো

সে তো চেয়েছে হাতেরই পরশ।


হাত শুধু হাতের পরশ চায়; হয়তো তুমি তা চাওনি।

তবুও তোমার হাতটাকে ধরলাম।

যে ব্লেডে তুমি তোমার হাত কাটো

সে ব্লেডে আমি কেন আমার শ্বাসনালী কাটতে পারি না।


আমার শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয়।

বুকের মধ্যে দীর্ঘশ্বাস চাপিয়ে চলে গেলে তুমি

আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম।


আমার ভেতরে পাথর জমে গেছে

আমার দম আটকে যায়।

আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হয়...


তুমি যে ব্লেডে তোমার হাত কাটো প্রিয়

সেই ব্লেডটা আমাকে দাও

আমি আমার শ্বাসনালীটা কাটি...



তনুতাকে— ঙ


হাওয়ায় ভেসে আসছে লালনের সুর

তুমি চলে যাচ্ছো দূর থেকে আরও বহুদূর

বিরহে কেঁদে ওঠে মরমী চোখ দুটি

তোমার নাম ধরে নদীকে ডাকি নদী সাড়া দেয় না

আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি আকাশ কথা কয় না


তোমাকে হলো না পাওয়া এজন্মে প্রিয়...


ফুল যদি ঝরে যায় শেষ সন্ধ্যায়

তুমি তার পাবে না সুবাস। মাটির কাছে যারা থাকে

তাদের শোনাও তুমি রাখালের গান

তোমার মরমী চোখ শুধু জানে

তোমাকে হারাবো ভেবে বাউলের হয় কতো ভয়...


যদি ভালোবেসে থাকো তবে খুলে দাও তোমার হৃদয়।



তনুতাকে— চ


আমার ঘর ভেঙে তুমি অন্য ঘরে চলে গেলে

ভাবছি, আমি আর বাড়ি ফিরব না 

পাহাড়ে যাব অথবা যাব সমুদ্রে

বুকের মধ্যে এতো ঢেউ নিয়ে কী করে যে সমুদ্রে যাই

ভাবছি, পাহাড়েই যাব। ছোট্ট কুঁড়েঘর বানাব।


আমার ঘরে,

ভরা জ্যোৎস্নার আলো আসবে

বাউল গানের সুর আসবে

গভীর রাতও নেমে আসবে

জোনাকি পোকার আলো আসবে

রোদ আসবে, বৃষ্টি আসবে

জল দিতে ঝরনা আসবে

বন্য ফুলের সুবাস আসবে।


আমার এই ছোট্ট ঘরে, শূন্য এই বুকের `পরে 

সবকিছু আসবে ঠিকই


জানি, তুমি কোনদিন আসবে না...



তনুতাকে— ছ


বইয়ের ছেড়া পাতায় লিখে রাখি তোমার নাম

পবিত্র হয়ে যায় কলমের কালি;

জিহ্বায় আঙুল ছুঁয়ে উল্টে দেই বইয়ের পাতা


বই পড়ে কতোটুকু হলো আর জানা

বই পড়তে পড়তে শুধু ভাবি...


বই পড়ে যতোটুকু জানা যায়

তোমাকে ভালোবেসে জানা যায় আরও!



তনুতাকে— জ


যতদূরে চোখ যায়

যতদূরে হাত যায় চলে

নীরব নদীর মতো ছোটে চলে এইতো জীবন

রঙিন ফুলের কাছে

ভ্রমরের কতো কতো ঋণ 

চোখের জলে ভালোবাসা, করেছ হয়তো রঙিন!


 


তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন 

জন্ম ০৪ এপ্রিল ।। ময়মনসিংহ 

মেইল: md.touhid.ahmmed@gmail.com 


Post a Comment

1 Comments

Emoji
(y)
:)
:(
hihi
:-)
:D
=D
:-d
;(
;-(
@-)
:P
:o
:>)
(o)
:p
(p)
:-s
(m)
8-)
:-t
:-b
b-(
:-#
=p~
x-)
(k)

Close Menu