এইচ বি রিতা'র একগুচ্ছ কবিতা:
আজ বৃষ্টির দিন
ভিজে যাওয়া পৃথিবীর মিষ্টি সুবাসে
ঝরনার প্রবাহিত জলের স্নিগ্ধ শব্দ-জানান দিয়ে যায়
আজ বৃষ্টির দিন!
গাছের ডালে পাখির কলকাকল
নগ্ন তরুণীর মতো রৌপ্য তরল বৃষ্টির ফোঁটায়-ভেজা শরীর
মন ভিজিয়ে যায়। শিহরণে তাপ ছুঁড়ে যায়।
এমন দিনে রঙিন ছাতা-গরম কফিতে আমাদের
একটি চুম্বন, বর্ষার কাছে ঋনী করে যায়।
আজ তবে বৃষ্টিকে লুলাবি গাইতে দাও
না হয় বেডটাইম মুন-শুনিয়ে যাক কানে কানে-
ফিসফিসিয়ে
জলাশয় তৈরি হোক ফুটপাতে
ভেসে যাক শহর, শুধু তুমি আমি অবলোকন করি
নগ্ন পাখির নৃত্য; একটি চুম্বন শেষে।
তাকে দেখি রোজ
মেয়েটিকে দেখি রোজ হেঁটে যায় বক্রাকার পথে
বুক টান টান করে
মোলায়েম হাসি টেনে মুখে হাত নাড়ে, কখনো
বুক চেপে ধরে।
মেয়েটির চোখ রহস্যের চাদরে মোড়া আশ্চর্য সুন্দর
কাতরতায় এ যে শতাব্দির খেলাঘর।
ও চোখের ভিতর একটি মানুষ
দ্বৈরথ টানাপোড়েনে আপাদমস্তক কালো পর্দা টেনে দেয়।
মেয়েটি বসে পড়ে একা ঘুমন্ত রাতে কোন এক বৃক্ষতলে
শব্দহীন কথোপকথনে রচে যায় জীবনের গল্প
বাতাস ছুঁয়ে গেলে অধর বিনা অনুমতিতে; নিঃশ্বাস চেপে
শুঁষে নেয় সে নোনাজল।
মেয়েটিকে দেখি রোজ উড়ে যেতে যেতে মাটি খুঁড়ে পোঁতে দেয়
শরীরের তাপ-নির্দ্বিধায়
যা কিছু সম্বল বুকে ধরে হেঁটে যায় সমুখ পথে
কিছুদূর যেতেই ফুলে ফেঁপে উঠা বুক টুপটুপ জলে ভিজে যায়
পথের মাঝে উগরে দিয়ে জ্বালা চিৎকারে
নতুন করে আবারো হাঁটে সে রোজ; নিত্য অভ্যাসে।
২.
মেজাজ ধরে রাখি স্রোতের মুখে! অচল গিরায়
দয়ামাখা দুটো হাত
ঢেউ খেলানো শরীর নিস্তেজ হলে,
জ্যোৎস্না গিলে খায় অতৃপ্ত রাত।
বেহায়া ঠোঁট তুমি তখনো হিসাব কষো;
আঁধারে অভিসম্পাত।
ঝুলে আছে মধ্যবয়সী চাঁদ আকাশ সঙ্গমে-
চুপিচুপি
ভাঙ্গচুরের পর কোথায় জমা রাখি,
না লেখা পাণ্ডুলিপি।
কয়েকটি ধাক্কা
ওরা আমাকে বহুবার ছুঁড়ে ফেলেছে
এখান থেকে ওখানে-কয়েকটি ধাক্কা -
চিলির সুনামী, পৃথিবীপৃষ্ঠকে যেমনটি দিয়েছিল।
বিষদাঁতে অনেকবার কামড়ে দিয়েছে-ওরা
ঘৃণার সাথে
অট্টহাসিতে যেমনটি লুসিফার-খুঁড়িয়ে হাঁটা
নক্ষত্র দেখে।
তারা পুড়ে যাওয়া ত্বক নিয়ে মাতাল হয়েছে
বিবস্ত্ররা-আমাকে হাঁটতে দেখে হেসে খুন হয়েছে।
তারা খুব চেষ্টা করেছে ভেঙে গুড়িয়ে দিতে-
আত্মবিশ্বাস, যমুনা নদী জলে যেমন তারকা মসজিদ।
যতবার চেষ্টা অব্যাহত ছিল,
ততবার আমি দীপ্তিময় হয়ে উঠেছি
একেকটা আঘাতের বিনিময়ে-আরো শাণিত ও ধারালো হয়েছি।
কেননা, আমি ভেঙে পড়তে আসিনি, এই পৃথিবীকে আলোকিত করতে জন্মেছি।

0 Comments